Guide

ভিজিট ফি বা ইন্সপেকশন ফি: মানে কী, কেন নেন, কীভাবে ঠিক করবেন

আমার কারিগর টিম · · পড়তে প্রায় ৩ মিনিট

“শুধু দেখে গেলেও টাকা দিতে হবে?” – কারিগর ডাকার সময় এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির জায়গা। ভিজিট ফি কী, কেন সৎ কারিগররাও নেন, কাজ করালে সেটা কী হয়, আর চ্যাটে আগেই কী ঠিক করে নিলে কারও মন খারাপ হয় না – সহজ ভাষায়।

ভিজিট ফি আসলে কী

ভিজিট ফি (কেউ বলেন ইন্সপেকশন ফি, চেকিং চার্জ বা ডায়াগনসিস ফি) হলো কারিগর আপনার বাসায় এসে সমস্যাটা দেখে বলার জন্য যে টাকা নেন। এর মধ্যে আছে তাঁর যাতায়াত (ঢাকার জ্যামে এক ঘণ্টা), সঙ্গে আনা যন্ত্রপাতি, আর অভিজ্ঞতা – ঠিক কোথায় সমস্যা তা বলতে পারাটাই একটা দক্ষতা।

আমার কারিগর অ্যাপে প্রতিটি কারিগর প্রোফাইলে নিজের ভিজিট ফি লিখে দেন, তালিকাতেও দেখা যায়। আমরা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক ঠিক করে দিই না – কারিগর নিজে ঠিক করেন, এলাকা ও কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়।

কেন সৎ কারিগররাও ভিজিট ফি নেন

ধরুন একজন এসি মিস্ত্রি দিনে পাঁচটা বাসায় যান, তিনটিতে গ্রাহক “ভেবে দেখব” বলে ফিরিয়ে দেন। ভিজিট ফি না থাকলে তিন ঘণ্টা রাস্তায় কাটিয়ে তাঁর আয় শূন্য। তাই ফি না নিলে দুটো জিনিস হয়: হয় কারিগর দেখে-না-দেখেই দামি যন্ত্রাংশের কথা বলে কাজ পাকা করতে চান, নয়তো “ফ্রি ভিজিট” বলে পরে মূল দামে সেটা লুকিয়ে যোগ করেন।

স্পষ্ট ভিজিট ফি আসলে গ্রাহকের পক্ষে – সমস্যা নির্ণয়ের জন্য একটা ছোট, জানা খরচ দিয়ে আপনি নিরপেক্ষ মতামত পান, আর কাজ করাবেন কি না সেটা চাপমুক্ত হয়ে ঠিক করতে পারেন।

কাজ করালে ফি কী হয়

তিন রকম চল আছে – কোনটা কারিগর মানেন, চ্যাটে আগেই জেনে নিন:

  • ফি মূল দামে ধরা হয় (adjustable): কাজ করালে ভিজিট ফি আলাদা লাগে না – সবচেয়ে সাধারণ
  • ফি আলাদা থাকে: কাজের দামের ওপরে ভিজিট ফি যোগ হয় – বড় কাজে কম দেখা যায়, ছোট কাজে বেশি
  • শুধু দেখলে ফি, কাজ করালে মাফ, তবে যন্ত্রাংশ আনার জন্য আবার আসতে হলে দ্বিতীয় ভিজিটে কী হবে – সেটাও জেনে নিন

ফি কখন যুক্তিসঙ্গত নয়

কয়েকটা পরিস্থিতিতে ফি দেওয়ার আগে ভাবুন: কারিগর সমস্যাটা আসলে খুঁজে না পেয়ে “পরে দেখব” বলছেন; নিজের ভুলে (ভুল যন্ত্রাংশ এনেছেন) দ্বিতীয়বার আসতে হচ্ছে; বা প্রোফাইলে লেখা ফি-র চেয়ে বেশি চাইছেন। প্রথম কেসে অনেক কারিগর অর্ধেক নেন বা পরের ভিজিটে ধরেন – চ্যাটে ভদ্রভাবে তুলুন।

অন্যদিকে, কারিগর এসে দেখে বললেন যন্ত্রটা মেরামতের অযোগ্য, বা আপনি দাম শুনে কাজ করাবেন না – এই দুই ক্ষেত্রে ফি দেওয়াই ন্যায্য। তিনি সময় ও দক্ষতা দিয়েছেন, আপনি তথ্য পেয়েছেন।

ঢাকার বাস্তবতা: দূরত্ব ও সময়

একই কারিগর মিরপুরের ভেতরে এক ফি আর উত্তরায় গেলে আরেক – এটা স্বাভাবিক, কারণ যাতায়াতের সময় দ্বিগুণ। অ্যাপের তালিকায় প্রতিটি কারিগরের দূরত্ব দেখানো হয়; কাছের কারিগরকে আগে জিজ্ঞেস করলে ফি কম থাকে আর তিনি দ্রুত আসতে পারেন। রাতে বা ছুটির দিনে জরুরি ভিজিটে অনেকে বেশি নেন – সেটাও আগে জেনে নিন।

একসঙ্গে একাধিক কাজ থাকলে (দুটো এসি সার্ভিসিং, বা এসি + ফ্যান) একই ভিজিটে করালে ফি একবারই – চ্যাটে সব কাজ একসঙ্গে বলুন।

চ্যাটে এই তিন লাইন লিখে নিন

কারিগর রওনা দেওয়ার আগে অ্যাপের চ্যাটে এটুকু লিখিত থাকলে পরে কোনো বিরোধ হয় না: (১) “ভিজিট ফি ___ টাকা, শুধু দেখলে।” (২) “কাজ করালে ফি মূল দামে ধরা হবে / আলাদা থাকবে।” (৩) “যন্ত্রাংশ লাগলে আগে জানাবেন, দাম ঠিক হলে তবে কাজ।” অ্যাপ কোনো পেমেন্ট নেয় না – টাকা সরাসরি কারিগরকে – কিন্তু চ্যাটের রেকর্ড দুই পক্ষের কাছেই থাকে।

কাজ শেষে অ্যাপে মোট খরচটা লিখে রাখুন। সেটা থেকেই প্রতিটি কারিগরের প্রোফাইলে “সাধারণত কত খরচ হয়” হিসাব হয় (অন্তত ৫টি কাজ হলে) – পরের গ্রাহক তাহলে ফোন করার আগেই ধারণা পান।

  • ভিজিট ফি = যাতায়াত + যন্ত্রপাতি + সমস্যা নির্ণয়ের দক্ষতার দাম; প্রোফাইলে লেখা থাকে।
  • স্পষ্ট ফি গ্রাহকের পক্ষে – “ফ্রি ভিজিট” প্রায়ই লুকানো খরচ।
  • কাজ করালে ফি মূল দামে ধরা হয় কি না – চ্যাটে আগেই জেনে নিন।
  • দেখে মেরামতের অযোগ্য বললে বা আপনি কাজ না করালে ফি দেওয়া ন্যায্য।
  • দূরের কারিগরের ফি বেশি হতে পারে; কাছেরজনকে আগে জিজ্ঞেস করুন, একাধিক কাজ একসঙ্গে বলুন।

More guides

  • Guide

    গরমের আগে এসি সার্ভিসিং: ঢাকায় কী, কেন, কখন

    ঢাকার ধুলা আর আর্দ্রতায় এসি বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং না করালে ঠান্ডা কমে, বিল বাড়ে আর গরমের মাঝখানে নষ্ট হয়। কখন করাবেন, সার্ভিসিংয়ে ঠিক কী কী হয়, নিজে কতটুকু করতে পারেন আর কারিগরকে কী জিজ্ঞেস করবেন – এই গাইডে।

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · পড়তে প্রায় ৩ মিনিট

  • Guide

    ফ্রিজ ঠান্ডা হচ্ছে না? সাধারণ কারণ আর কী করবেন

    ফ্রিজের শব্দ আছে, লাইট জ্বলে, কিন্তু ভেতরটা গরম – ঢাকার বাসায় সবচেয়ে কমন অভিযোগ। ভালো খবর: অনেক সময় কারণটা ছোট (থার্মোস্ট্যাট, ডোর সিল, বরফ জমা), আর কারিগর ডাকার আগে নিজে কয়েকটা জিনিস দেখে নিলে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচে।

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · পড়তে প্রায় ৪ মিনিট

  • Guide

    ভরসার কারিগর কীভাবে চিনবেন: ডাকার আগে ৮টি জিনিস দেখুন

    ঢাকা-গাজীপুরে দক্ষ মিস্ত্রির অভাব নেই – অভাব হলো কাকে ভরসা করবেন তা জানার উপায়। এই গাইডে ভেরিফিকেশন ব্যাজের মানে, রিভিউ পড়ার কৌশল, দাম নিয়ে কথা বলার নিয়ম, যে লাল পতাকা দেখলে সরে আসবেন, আর কাজের পরে কী করলে পরের গ্রাহকও উপকৃত হন।

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · পড়তে প্রায় ৪ মিনিট

কারিগর দরকার?

আমার কারিগর অ্যাপে ঢাকা ও গাজীপুরের যাচাইকৃত কারিগর খুঁজুন – রেটিং দেখুন, চ্যাট বা কলে দাম ঠিক করুন। বিনামূল্যে।

Coming soon · শীঘ্রই Google Play-তে

অ্যাপটি এখন শুধু Android-এ, Google Play-তে আসছে। ডাউনলোড ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।